সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

২২শে শ্রাবণ উপলক্ষ্যে

২৫শে বৈশাখ অথবা ২২শে শ্রাবণ অথবা অশাম শালা অশাম শালা অশাম শালা

..................................................................................................... প্রবীর কুন্ডু



রবীন্দ্রনাথকে বোঝা বড় কঠিন। বাঃ কি দারুণ একখানা লাইন। কোনো টপ লেভেলের চ্যানেলে সাদা পায়জামা পরে সন্ধ্যেবেলার আসরে লাইনটা নির্দ্বিধায় ঝেড়ে দিয়ে কামিয়ে আসা গোঁফে একটু তা দিয়ে দিলাম। ওরে হাঁদারামা শুধু রবীন্দ্রনাথকে নয়, নবান্নের মমতা, পিকুর দীপিকা এমনকি পাঁচমাথার পাঁচুগোপালকে বোঝাও চাট্টিখানি কথা নয়।
‘তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো ওগো ঘুম ভাঙানিয়া’ ... লাইনটা বুঝলেন তো কোনো প্রেমিকা বা প্রেয়সীকে নিয়ে নয়, ওটা আসলে রাতের বেলায় শান্তিনিকেতনের কোনো এক ঘরে বৃষ্টির সময় চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছিল, সেই আনন্দে লেখা। তোমার মাথা !! কবি তোমায় এস এম এস পাঠিয়েছিল ?? কবির মনে কি চলছিল তা তুমি কি করে জানলে হে ছোকরা ‘পয়গম্বাট’।
তোমার নিজের মনের কথা তুমি জানো ?? ট্রেনের জানলায় বসে দূরে দেখলে কি


ছু পাঁজি ছেলে কাঁদা মেখে ফুটবল খেলছে। অমনি তুমি নস্টালজিয়ার পাড়ায় খাবি খেয়ে গুমড়ে উঠলে, আহা রে ‘আকাশ ঘিরে মেঘ করেছে / বাদল গেছে টুটি’ ... উহু উহু। আর নিজের ঘরের ছেলে স্কুল থেকে কাঁদা পায়ে বাড়ি ফিরলে সপাটে চড়, বিকেলে টিফিন বন্ধ। হিপোক্রিটের হিপোপটেমাস।
রবি তার বউদির হাত ধরলে বা তার সাথে লুকোচুরি খেললে পরকিয়া হয়ে যায়। আর তুমি শালা ক্রিয়েটিভের শুঁয়োপোকা তাই নিয়ে বই লেখো, সিনেমা বানাও। টিকিট কেটে ১০০ বছর আগের কাল্পনিক পরকিয়া দেখে নিজেকে শ্বান্তনা দাও, রবীন্দ্রনাথ যদি করতে পারে তাহলে আমি কি দোষ করলুম।
‘আমার হিঁয়ার মাঝে লুকিয়েছিলে দেখতে তোমায় পাইনি’। পাবে কি করে, চোখে তোমার ছানি ছিল, নয়তো ন্যাবা ছিল। অথবা গার্নিশ করা ত্বক দেখে তোমার মাথায় ভ্যাবাচ্যাকা ছিল। শুধু মুখেই বলেছিলে ‘ডাগর দু’খানি আঁখি’ / তোমার চোখ তখন রিসেপসনিস্টের ক্লিভেজে মাখামাখি।
‘হৃদয় আমার নাচেরে আজিকে ময়ুরের মত নাচেরে’, কবিসভা জমিয়ে দিলে খানিক নিলে হাততালি। ওদিকে খিস্তি দাও পৌরসভায়, যদি অফিস ফেরতা জমা জলে ভিজে যায় গোড়ালি। ‘কৃষ্ণকলি কৃষ্ণকলি’ বলে অনাবিল দাঁত কেলিয়েছো আর বিজ্ঞাপন দিয়েছ পাত্রী চাই ফর্সা। কুমারীর মন কেড়েছে ‘রাখালিয়া বাঁশিতে’ কিন্তু হাজ্‌বেন্ড চাই কেঃসঃচাঃ এবং বাইক বিনা হেলমেটে।
‘যখন পড়বে না মোর পায়ের চিহ্ন এই বাঁটে’। রবি, তুমি বহুদিন আগেই মরেছ। তবু তোমায় শান্তিতে থাকতে দিচ্ছে না কেউ। উঠতি ব্যান্ড গীটার নিয়ে তোমার জ্বালিয়ে দিচ্ছে সুর, নয়তো বালি মাফিয়ায় তোলপাড় হয়ে গেছে সমগ্র বোলপুর। তুমি এখন ঝালে ঝোলে অম্বলে সিনেমা সিরিয়ালে। ভালোবাসার চাপে তুমি চিপসে গেলে। বাংলার মা বোনেরা তোমায় রোজ গিলছে সাথে খানিক মুড়ি তেলেভাজা। ভিখিরি বাউল বিড়িতে দু’টান দিয়ে বলে , ভেঙ্গে মোর ঘরের চাবি নিয়ে যাবি কে আমারে / আগে তো নিয়ে আন তালা / অশাম শালা অশাম শালা অশাম শালা ...
হয়তো এখানেই ‘দাঁড়িয়ে আছো’ ছোট্ট মিনুর হাত ধরে। দেখে নাও ২২শে শ্রাবণ ভীষণ খুশি, ভরে আছে স্পনসরে।

মন্তব্যসমূহ

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

এরপরেও কি আপনি বলবেন 'গর্ভপাত নিপাত যাক !!!'

এতদিন গর্ভপাতকে আপনারা নিশ্চয় অন্যায় ভেবে এসেছেন?? সেটাই তো ভাবা উচিত?? আসুন এবার আমি আপনাকে একটু অন্যরকম ভাবে জিনিসটা দেখানোর চেষ্টা করি। লজিকটা বোঝার চেষ্টা করুন এবং যুক্তি নির্ভর বিরোধিতা করুন। বেকার নাকে কান্না কপচাবেন না প্লীজ। আসলে আপনারা বড় কুঁচুটে। সব সময় একপক্ষ বা এক দিক দেখেই বিচার করে ফেলেন। বড্ড বেশি ইমোশোনাল ফেকলু। একটু দুঃখু দেখলেই চোখ টশটশ করে। সবটাই ন্যাকামো বলছি না। কিন্তু যে পাপ নিজে দিনে সাঁইত্রিশ বার করেন সেটাই অন্য কেউ করলে আহা! কি নিষ্ঠুর বলে ডুকরে কেঁদে ওঠেন। 'রাস্তায় মানুষটা পরে রয়েছে, আহা কেউ এসে একটু সাহায্য করছে না কেন' বলে টিভিতে বাইট দিতে পারেন কিন্তু নিজে এক পা নড়তে পারেন না। যাই হোক, মোদ্দা কথা হল, অনিচ্ছাকৃত শিশু গর্ভে এসে গেলে অনেকেই গর্ভপাত করে থাকেন। সোজা বাংলায় যাকে Abortion বলে। অনেককেই দেখেছি এই গর্ভপাত নিয়ে খুব আঁকু-পাকু করে থাকেন। বলা যায় না, কিছুদিন পর তারা এটাও বলতে পারেন, কনডোম পরে সেক্স করা মানে একটি 'প্রায় হয়ে যাওয়া শিশুর হত্যা' ইত্যাদি। যে শিশুকে বাবা-মা জন্ম দিতে চাইছে না, তাকে আইনের ভয় দেখিয়ে জন্ম দেওয়া ক...

আমাদের প্রতিদিনের ঘিরে থাকা মিথ্যেরা

স্ব রূপ আমার বন্ধু। পাড়াতেই থাকে। পাড়ায় দেওয়াল পত্রিকা করার সূত্র ধরে ওর সাথে ঘনিষ্টতা এবং বন্ধুত্ব। ওর হাত ধরেই নাটকের আঙ্গিনায় প্রবেশ। ছেলেটা বড় ভালো। ইমোশোনাল, গোঁয়ার, সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত। দেখতে শুনতে সেরকম ভালো নয় তবে চালাক চতুর। সমস্যা একটাই। মেয়েদের বড্ড ভয় পায়। আগ বাড়িয়ে কথা বলা তো দূর অস্ত যেখানে মেয়ে, ও তার উল্টো দিকে। আমরা বন্ধু মহলে যখন মেয়ে নিয়ে নানারকম আলোচনায় ব্যস্ত, স্বরূপ তখন ক্রমশ চলে যায় অন্য কোনো বিষয়ে। সিনেমার নায়িকাদের প্রতি তার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। বাঘা বাঘা সব নায়িকাদের সিনেমা তো দূর, সে তাদের ছবিও দেখেনি এখনও। মোদ্দা কথা হল, আমরা সকলেই জানতাম, স্বরূপ মেয়েদের নিয়ে কোনোরকম কৌতুহল দেখায় না। মেয়েদের প্রতি ওর রাগ ঘৃণা ভালোবাসা আগ্রহ কোনো কিছুই নেই। একদিন দুজন মিলে বইমেলায় যাচ্ছি। মাঝপথে হঠাৎ কি কথা প্রসঙ্গে স্বরূপ নিজের খোলস ছাড়াতে শুরু করে। কথায় কথায় জানিয়ে দেয় তার আশেপাশের বাড়িতে যত মেয়ে রয়েছে প্রায় প্রত্যেকের সাথেই তার কখনও না কখনও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। শুধু মেয়ে নয়, আশে পাশের বাড়ির কিছু বিবাহিত যুবতী মহিলার সাথেও তার অনেক গভীর সম্পর্ক। এই মেয়েদের মধ্...

আসুন খাদে নামি

শচীন তেন্ডুলকার কে আপনারা সকলেই চেনেন। অনেকেই এটাও জানেন যে একদিনের ম্যাচে প্রথম সেঞ্চুরীটি পেতে শচীনকে ৭৯ টি ম্যাচ অপেক্ষা করতে হয়েছিল। না, এটা ক্রিকেট বা শচীনকে নিয়ে কোনো লেখা নয়। এটা খাদ নিয়েই। কৌশিক গাঙ্গুলীকে চিনি বহু আগে থেকে যখন তিনি টেলিফিল্ম বানাতেন, সেই সময় থেকেই। এই রে, চিনি বলতে আপনি আবার এটা ভেবে বসবেন না যেন যে ব্যক্তিগত ভাবে চিনি। মোটেই তা নয়। চিনি মানে তার নাম জানি, তার ছবি দেখেছি। সত্যি বলছি অখাদ্য। পাতে দেওয়া যায় না। দুর্বল গল্প। দুর্বল চিত্রনাট্য। দুর্বল মেকিং। কৌশিক গাঙ্গুলীর একটি ছবির নাম করছি। 'শূন্য এ বুকে'। হল থেকে বেরিয়ে এসে মাথা ঝিমঝিম করছিল। 'জ্যাকপট' , মানসিক অত্যাচার বললেও কম বলা হয়। 'ব্রেকফেল' ঠিকঠাক লেগেছিল। Very Frankly Speaking শুধুমাত্র পরমব্রত , স্বস্তিকা আর অনু কাপুরের জন্য। গল্প মোটেই ভালো নয়। 'আরেকটি প্রেমের গল্প' আমি দেখিনি। 'রংমিলান্তি' দেখলাম। বিশ্বাস করুন। গল্প ভালো লাগেনি। অযৌক্তিক। কিন্তু মেকিংটা অসাধারণ লাগল। বাহ। তারপর পরপর দেখলাম C/O Sir, Laptop, শব্দ। ঠুকে ঠুকে খেলা লোকটা হঠাৎ তিনিতে ব্যা...