সরাসরি প্রধান সামগ্রীতে চলে যান

নারী স্বাধীনতা নিয়ে আমার ব্যাক্তিগত কিছু সংশয়

বাবারা জানে মেয়ে ছোটো জামা পরে রাস্তায় বেরোলে ছেলেরা কু-নজর দেবে। টিটকিরি দেবে। অন্ধকার রাস্তায় সুযোগ পেলে হাত ধরে টান দেবে। দলে আরো কিছু ছেলে থাকলে হয়তো বল পূর্বক ধর্ষণ করবে।

খারাপ মানুষরা যেহেতু খারাপ-ই তাই তারা খারাপ কাজ-ই করবে। চোর চুরি করে বলেই আমরা ঘরে তালা দিয়ে বেরোই। আজ অবধি কাউকে দেখিনি চোরকে 'চুরি করা অন্যায়' জ্ঞান দিয়ে নিজের ঘর খোলা রেখে নিশ্চিন্তে দীঘা বেড়াতে গেছেন।

ধর্ষককে জ্ঞান দিয়ে যে কোনো লাভ হবে না সেটা বাবা মায়েরা জানে। তাই তারা তাদের সন্তানকেই উপদেশটা দেন। সন্তান ছেলে হোক কি মেয়ে , বাবা মায়েরা জানে রাত একটায় রাস্তায় ঘুরলে সেটা বিপজ্জনক। ছেলে ঘুরলেও বিপজ্জনক, মেয়ে ঘুরলেও বিপজ্জনক। ছেলেকে মানা করলে সে শোনে না। উলটে তার বীরত্বের ফিরিস্তি শোনায়। মেয়েকে না করলে সেও শোনে না। 'এটা নারী স্বাধীনতার যুগ, আমার যে পোশাক পরতে ভালো লাগে সেটাই পরব' বলে রাস্তায় বেরিয়ে যায়।


মেয়ে বোঝে না। নারি স্বাধীনতার যুগ সেটা এই বাবা জানে, এই মেয়ে জানে। কিন্তু যে ধর্ষণ করবে সে সেটা জানেও না, মানেও না।

নিজের বাড়ির মেয়েদের রক্ষার্থে যে বাবা-মা তাদের রাতের বেলায় একা বেরোতে বা ছোট পোশাক পরতে মানা করে, সেই মেয়েরাই তার বাবা-স্বামী-প্রেমিক-দাদা কে নারি স্বাধীনতার শত্রু বলে মনে করে। নারী স্বাধীনতা মানে কি সিগারেট খাওয়া? ছোটো পোশাক পরা? ভীড় বাসে বয়স্ক মানুষকে উঠিয়ে লেডিজ সীটে আরাম করে বসে পরা।

মদ খাওয়াটা সকলের জন্যই খারাপ। ছেলে করলেও খারাপ, মেয়ে করলেও খারাপ। মেয়েদের না করলে তারা 'এটা নারী আন্দোলনের যুগ, তুমি আমায় বাঁধা দিতে পারো না' বলে জ্ঞান দেয় কেন?? সমস্ত অপরাধ প্রবণতাকেই আজকাল কিছু মেয়েরা এই নারী আন্দোলনের দোহাই দিয়ে বেশ ভালোই চালিয়ে নিচ্ছে।

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

২২শে শ্রাবণ উপলক্ষ্যে

২৫শে বৈশাখ অথবা ২২শে শ্রাবণ অথবা অশাম শালা অশাম শালা অশাম শালা ..................................................................................................... প্রবীর কুন্ডু রবীন্দ্রনাথকে বোঝা বড় কঠিন। বাঃ কি দারুণ একখানা লাইন। কোনো টপ লেভেলের চ্যানেলে সাদা পায়জামা পরে সন্ধ্যেবেলার আসরে লাইনটা নির্দ্বিধায় ঝেড়ে দিয়ে কামিয়ে আসা গোঁফে একটু তা দিয়ে দিলাম। ওরে হাঁদারামা শুধু রবীন্দ্রনাথকে নয়, নবান্নের মমতা, পিকুর দীপিকা এমনকি পাঁচমাথার পাঁচুগোপালকে বোঝাও চাট্টিখানি কথা নয়। ‘তোমায় গান শোনাব তাই তো আমায় জাগিয়ে রাখো ওগো ঘুম ভাঙানিয়া’ ... লাইনটা বুঝলেন তো কোনো প্রেমিকা বা প্রেয়সীকে নিয়ে নয়, ওটা আসলে রাতের বেলায় শান্তিনিকেতনের কোনো এক ঘরে বৃষ্টির সময় চাল ফুটো হয়ে জল পড়ছিল, সেই আনন্দে লেখা। তোমার মাথা !! কবি তোমায় এস এম এস পাঠিয়েছিল ?? কবির মনে কি চলছিল তা তুমি কি করে জানলে হে ছোকরা ‘পয়গম্বাট’। তোমার নিজের মনের কথা তুমি জানো ?? ট্রেনের জানলায় বসে দূরে দেখলে কি ছু পাঁজি ছেলে কাঁদা মেখে ফুটবল খেলছে। অমনি তুমি নস্টালজিয়ার পাড়ায় খাবি খেয়ে গুমড়ে উঠলে, আহা রে ‘আকাশ ঘিরে মে...

আমাদের প্রতিদিনের ঘিরে থাকা মিথ্যেরা

স্ব রূপ আমার বন্ধু। পাড়াতেই থাকে। পাড়ায় দেওয়াল পত্রিকা করার সূত্র ধরে ওর সাথে ঘনিষ্টতা এবং বন্ধুত্ব। ওর হাত ধরেই নাটকের আঙ্গিনায় প্রবেশ। ছেলেটা বড় ভালো। ইমোশোনাল, গোঁয়ার, সক্রিয় রাজনীতির সাথে যুক্ত। দেখতে শুনতে সেরকম ভালো নয় তবে চালাক চতুর। সমস্যা একটাই। মেয়েদের বড্ড ভয় পায়। আগ বাড়িয়ে কথা বলা তো দূর অস্ত যেখানে মেয়ে, ও তার উল্টো দিকে। আমরা বন্ধু মহলে যখন মেয়ে নিয়ে নানারকম আলোচনায় ব্যস্ত, স্বরূপ তখন ক্রমশ চলে যায় অন্য কোনো বিষয়ে। সিনেমার নায়িকাদের প্রতি তার কোনো ইন্টারেস্ট নেই। বাঘা বাঘা সব নায়িকাদের সিনেমা তো দূর, সে তাদের ছবিও দেখেনি এখনও। মোদ্দা কথা হল, আমরা সকলেই জানতাম, স্বরূপ মেয়েদের নিয়ে কোনোরকম কৌতুহল দেখায় না। মেয়েদের প্রতি ওর রাগ ঘৃণা ভালোবাসা আগ্রহ কোনো কিছুই নেই। একদিন দুজন মিলে বইমেলায় যাচ্ছি। মাঝপথে হঠাৎ কি কথা প্রসঙ্গে স্বরূপ নিজের খোলস ছাড়াতে শুরু করে। কথায় কথায় জানিয়ে দেয় তার আশেপাশের বাড়িতে যত মেয়ে রয়েছে প্রায় প্রত্যেকের সাথেই তার কখনও না কখনও শারীরিক সম্পর্ক হয়েছে। শুধু মেয়ে নয়, আশে পাশের বাড়ির কিছু বিবাহিত যুবতী মহিলার সাথেও তার অনেক গভীর সম্পর্ক। এই মেয়েদের মধ্...

আমরা ফিল্ম মেকার নই, আমরা জোগাড়ে।

বিশ্বের কথা বলতে পারব না। ভারতের কথাও জানা নেই। মোটামুটি ভাবে এই কলকাতার ছেলেদের কথা বলতে পারি। ছেলে বলতে শুধু ছেলে নয়। মেয়েরাও আরকি!! তবে তারা সব শুধু ছেলে মেয়ে নয়। কেউ কেউ বুড়োও আছেন তাতে। মানে বলতে চাইছি এই কলকাতায় বা কলকাতার আশেপাশে যারা নিজেদের মত করে সহায় সম্বলহীন অবস্থায় সিনেমা বা ডকুমেন্টারি বা ঐ জাতীয় কিছু একটা করছেন বা করতে চাইছেন । হ্যাঁ তাদের কথা বলতে পারি। না, এমনটা নয় যে তাদের সাথে বিশাল আলোচনা ফালোচনা করেছি। নাওয়া খাওয়া ভুলে তাদের নিয়ে গবেষণায় ব্যাস্ত ছিলাম এমনটাও নয়। আসলে পুরোটাই ব্যাক্তিগত অভিজ্ঞতা নির্ভর। অতিরিক্ত মশলা খেলে যেমন পেট গুড়গুড় করতে পারে, এবং সকলেরই করতে পারে সেটা অনুধাবন করতে গবেষণা লাগে না মাইরি। বেশি ভ্যান্তাড়া না মেরে পয়েন্টে আসা যাক। পয়েন্টে আসছি। জাস্ট আর দু-লাইন ভ্যাঁজাবো। এই লেখায় আমি টেকনিকাল বিষয়ের সমস্যায় আসছি না। এটা কিছু নন-টেকনিকাল বিষয় নিয়ে আমার নিতান্তই ব্যাক্তিগত বক্তব্য। ১। লোকেশান সমস্যা ।। আমাদের গল্প লিখতেই হয় এমন করে যাতে আমার চেনাশোনা এবং আয়ত্তের মধ্যে যা আছে সেখানেই গোটা ব্যাপারটা সালটে নেওয়া যায়, কিছুতেই তার বাইরে যাও...